Top Ad unit 728 × 90

ad728

এ মাত্র পাওয়া -

recent

বৈশ্বিক মন্দার ঢেউ আসছে, অর্থনীতি সুরক্ষায় সতর্কতা জরুরি

বিশ্বের পরাশক্তিদের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যে বৈশ্বিক মন্দার আভাস মিলছে। এ ছাড়া ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিসহ আরও কিছু কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির বিভিন্ন সূচক নিম্নমুখী।

সম্প্রতি প্রকাশিত আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বিশ্ব মন্দার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি বিদ্যমান রয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রায় ১৫-২৫ শতাংশ ভূমিকা রাখে জ্বালানি তেল। এ কারণে তেলের দাম বাড়লে অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যায়। পণ্যের দাম বাড়লে ভোক্তারা পণ্য কেনা কমিয়ে দেন। এর প্রভাবে মন্দা আরও প্রকট হয়।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমে যায়। তখন পণ্য উৎপাদনকারী দেশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি ওইসব দেশে যেসব বিদেশি কাজ করেন তাদের মজুরি কমে যায়। এতে রেমিটেন্স প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পণ্যের দাম কমার কারণে আমদানি ও রফতানিকারকরাও বিপাকে পড়েন। তখন তারা ব্যাংকের দেনা শোধ করতে পারেন না।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির কারণে অনেক দেশের অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য-যুদ্ধ চলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাশিয়া ও ইরান।

এসবের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অন্যান্য দেশে। স্বাভাবিকভাবে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই প্রভাব থাকতে পারে। এসব দেশের পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপের কারণে এ যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি স্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা চূড়ান্ত রূপে আবির্ভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এতে উন্নত দেশগুলো যেমন আক্রান্ত হবে, তেমনি স্বল্প আয়ের দেশগুলোও আক্রান্ত হবে। আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের মন্দায় বিশেষ করে রফতানি ও রেমিটেন্স আয়নির্ভর দেশগুলোয় বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এতে কর্মসংস্থান কমে যাবে। মানুষের জীবনযাত্রার মানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে কথা বলেছেন দেশের কয়েকজন বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ।

তাদের মতে, বৈশ্বিক মন্দার আংশিক প্রভাব বাংলাদেশও পড়বে। বিশেষ করে ব্যাংক, আমদানি, রফতানি ও রেমিটেন্স খাতে এ ধাক্কা আসতে পারে। তাই মন্দা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি দরকার।

রফতানির নতুন বাজার খুঁজতে হবে

ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে মূলত চীন এবং আমেরিকার। এতে দু’ধরনের ফলাফল হতে পারে। প্রথমত, আমেরিকানরা যদি চীন থেকে তৈরি পোশাক না নিয়ে বাংলাদেশ থেকে নেন, সেটা ভালো। তবে সমস্যা হল আমাদের চেয়ে তৈরি পোশাকের গুণগত মান ভিয়েতনামের ভালো।

সে ক্ষেত্রে পিছিয়ে যেতে পারি। আবার বৈশ্বিক মন্দার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশেও কিছুটা প্রভাব পড়বে। তবে সেটা ত্বরিত নয়, ধীরে ধীরে; অন্তত বছর খানেক সময় পাব। এটি রফতানিতে কিছুটা আঘাত হানতে পারে। যা এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

তবে পোশাকের গুণগত মান বাড়ানোর মাধ্যমে দাম বাড়াতে হবে। এ ছাড়া রফতানির নতুন বাজার খুঁজতে হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭ শতাংশ বা ৭ দশমিক ১ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি যদি হয়, সেটাও তো একটা ভালো প্রবৃদ্ধি।

অন্যান্য দেশের তুলনায় এটি বাংলাদেশের জন্য বড় ব্যাপার। কিন্তু বিবিএস জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশির যে তথ্য দেয়, তা অন্যান্য সূচকের সঙ্গে সামঞ্জ্যপূর্ণ নয়।

রেমিটেন্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈশ্বিক মন্দায় আমদানি, রফতানি এবং রেমিটেন্সে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মন্দা দীর্ঘায়িত হলে এ প্রভাবও দীর্ঘায়িত হবে।

মন্দার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কমে গেলে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ব্যাংকগুলো। এ কারণে এই দুই খাতের নির্বাহীদের সতর্ক থাকতে হবে। ব্যাংকারদের পণ্য আমদানির এলসি খোলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। শিল্পে বা বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব মন্দার সময় দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় বেশি নজর দিতে হবে। বিশেষত উৎপাদনশীল শিল্পে। দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে পারলে দেশীয় চাহিদানির্ভর শিল্পগুলোতে তেমন সমস্যা হবে না।

তবে মন্দা কেটে গেলেই পরিস্থিতি আবার উন্নতি হবে। মন্দার আভাস যেহেতু আগে পাওয়া গেছে সে কারণে এখন থেকেই আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখা উচিত। এ জন্য বিনিয়োগ বাড়ানোর পদক্ষেপ আগে থেকেই নিতে হবে।

আংশিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব নয়

মীর নাসির হোসেন
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, বিশ্বব্যাপী মন্দা আসার যে পূর্ভাবাস দেয়া হয়েছে তা বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সতর্কভাবে দেখা উচিত। কেননা

মন্দার বড় ধাক্কাটাই আসে মুদ্রা ব্যবস্থাপনা ও ব্যাংকিং খাতের ওপর। মন্দার কারণে ইউরোপ-আমেরিকায় অনেক ব্যাংক ধসে পড়ার নজির রয়েছে।

সেদিকে আমাদেরও খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমেরিকা চীনা পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে শুল্কারোপের কারণে বায়ারদের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছে ভিয়েতনাম-কম্বোডিয়ায়, এ ক্ষেত্রে আমরাও কিছু বায়ার পাব। এ থেকে রফতানি আয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বাবদ যা পাব তা অন্যভাবে খরচ হয়ে যাবে। কারণ শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া গ্যাসের দাম বাড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

সামষ্টিক অর্থনীতি ভালো হওয়ায় বড় ঝুঁকি না হলেও আংশিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব নয়। তারপরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
বৈশ্বিক মন্দার ঢেউ আসছে, অর্থনীতি সুরক্ষায় সতর্কতা জরুরি Reviewed by Gulf Bangla News Live on October 14, 2018 Rating: 5

No comments:

Copyright © 2018 Gulf Bangla News-Only Government Approved Printed Bengali Newspaper In UAE-All Right Reserved

Contact Form

Name

Email *

Message *

Theme images by Leontura. Powered by Blogger.